যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ডিজিটাল ওয়ালেটে ড্রাইভিং লাইসেন্স যুক্ত করার প্রবণতা বাড়লেও এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা এমডিএল ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক কার্ডের তুলনায় কম তথ্য শেয়ার করার সুযোগ থাকলেও, তথ্য শেয়ার হওয়ার পর তা কীভাবে সংরক্ষিত হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে।
ডিজিটাল লাইসেন্সের সুবিধা
সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডে থাকা সব তথ্য সহজেই অন্যের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু ডিজিটাল লাইসেন্সে ব্যবহারকারী শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য শেয়ার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি শুধুমাত্র বয়স যাচাই করতে চান, তবে তাকে পুরো জন্ম তারিখ না দেখিয়ে কেবল ২১ বছরের বেশি কি না—তা নিশ্চিত করার প্রযুক্তি এতে রয়েছে। অ্যাপল এবং গুগল তাদের ডিজিটাল ওয়ালেটে বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ও তথ্য এনক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি করেছে।
ট্র্যাকিং ও ডেটা শেয়ারিংয়ের ঝুঁকি
ডিজিটাল লাইসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস বা সার্ভার রিট্রিভাল পদ্ধতি নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষাকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে সরকারি সংস্থাগুলো জানতে পারে একজন ব্যক্তি কোথায় এবং কখন তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন। তবে ২০২৫ সালে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ মোটর ভেহিকেল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস (এএএমভিএ) এ ধরনের পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে, যা ব্যবহারকারীদের ট্র্যাকিং ঝুঁকি কিছুটা কমিয়েছে।
তথ্য সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ
তথ্য শেয়ার করার পর তা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহার করবে, তার ওপর ওয়ালেট অ্যাপের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আশঙ্কা, সরকারি ডিজিটাল আইডির প্রসার ঘটলে বিভিন্ন অনলাইন সেবা সংস্থা ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি নজরদারি করার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া, ডিজিটাল আইডির ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফোন হারিয়ে গেলে করণীয়
প্লাস্টিক লাইসেন্স হারিয়ে গেলে যেমন যে কেউ তা দেখে ফেলার ঝুঁকি থাকে, ডিজিটাল আইডির ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক সুরক্ষা থাকায় তা বেশ নিরাপদ। ফোন হারিয়ে গেলে অ্যাপল বা গুগলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দূর থেকেই ডিজিটাল লাইসেন্স মুছে ফেলা সম্ভব। তবে ব্যাটারি শেষ হওয়া বা ফোন বিকল হওয়ার মতো যান্ত্রিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে ডিজিটাল লাইসেন্সের পাশাপাশি সবসময় শারীরিক কার্ড বহন করাকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।