অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ক্লগস গুহায় ২৫ হাজার বছর আগের প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এলি গ্রোনো এবং তার দলের এই গবেষণায় দেখা গেছে, গুহাটির ভেতর আদিবাসীরা পরিকল্পিতভাবে বিশেষ কিছু ঘাস নিয়ে এসে তা পুড়িয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাদুকরী কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতেন। গুনাইকুরনাই সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই গুহাটি দীর্ঘ সময় ধরে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গুহার ভেতরে থাকা পাললিক স্তরে ৭৩টি ভিন্ন স্তরের ছাই জমেছে, যা প্রায় ৪,৪০০ থেকে ১,৬০০ বছর আগের। এছাড়া সেখানে প্রায় ২,০০০ বছর আগে স্থাপন করা একটি খাড়া পাথরও পাওয়া গেছে, যা গুহাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই গুহাটি মূলত গুনাইকুরনাই সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের এলাকাভুক্ত, যারা যুগ যুগ ধরে তাদের মৌখিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গুহাটির পবিত্রতার কথা প্রচার করে আসছেন।
ড. এলি গ্রোনো জানিয়েছেন, গুহার অন্ধকার পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে কোনো উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব নয়। তাই সেখানে পাওয়া মাইক্রোস্কোপিক ফাইথোলিথ বা উদ্ভিদ কোষের অবশিষ্টাংশ নিশ্চিত করে যে, মানুষ নিজ হাতেই বাইরে থেকে ঘাস সংগ্রহ করে গুহার ভেতর নিয়ে আসত। গবেষকরা দেখেছেন, আদিবাসীরা যত্রতত্র ঘাস না নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু জাতের ঘাস বেছে নিতেন, যা তাদের আচার-অনুষ্ঠানের অংশ ছিল।
এই গবেষণায় অংশ নেওয়া মনাশ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ব্রুনো ডেভিড উল্লেখ করেন, গুহার ভেতরে ঘাস পুড়িয়ে ছাই তৈরি করা মূলত গুনাইকুরনাইদের জাদুকরী ও নিরাময়মূলক আচারের অংশ। এছাড়া গুহায় পাওয়া ক্যাসুয়ারিনা গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জাদুকরী নিদর্শনের উপস্থিতিও প্রাচীন আধ্যাত্মিক চর্চার বিষয়টিকেই জোরালোভাবে প্রমাণ করে।