মিশরের কায়রোতে লোহিত সাগরে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মঙ্গলবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই সমর্থনের কথা জানান। লোহিত সাগরে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধি দলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
যৌথ নিরাপত্তা ও সম্পর্ক
মিশরের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরব কাঠামোর মধ্যে মিশর ও সৌদি আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত উদাহরণযোগ্য। সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মোখা বন্দর দখল করে নেওয়ার পর থেকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে মিশরের সুয়েজ খালের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই বছরে মিশরের রাজস্ব আয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কমেছে, যা খালের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।
নিরাপত্তার ঝুঁকি
হুথিরা লোহিত সাগরে সামুদ্রিক ট্রাফিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বস্ত করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। লোহিত সাগরে এই অস্থিরতা মিশরের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত মিশর হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে।