যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর বিজ্ঞানীরা কে২-১৮বি গ্রহ ও মঙ্গলের শিলাখণ্ড নিয়ে সম্প্রতি যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন শত শত বিশেষজ্ঞ। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার ভিকার্স ও তাঁর দল এই জরিপটি পরিচালনা করেছেন। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো নতুন তথ্য বা প্রাপ্তি কীভাবে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, তা যাচাই করাই ছিল এই জরিপের মূল লক্ষ্য।
২০২৫ সালে কে২-১৮বি এক্সোপ্ল্যানেটে প্রাণের উপস্থিতির সম্ভাব্য লক্ষণ এবং মঙ্গলের ‘চেইয়াভা ফলস’ নামক শিলাখণ্ডে অণুজীবের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। নাসা প্রশাসক শন ডাফি মঙ্গলের শিলাখণ্ড সম্পর্কে এটিকে প্রাণের সন্ধানে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছিলেন।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, কে২-১৮বি গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিজ্ঞানী একমত পোষণ করেছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলের শিলাখণ্ডের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা বেড়ে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া সিংহভাগ বিজ্ঞানীই এসব দাবির বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে অনির্ধারিত বলে মনে করছেন।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে পাওয়া সংকেত বা তথ্য বিশ্লেষণের চেয়ে সরাসরি কোনো বস্তু পর্যবেক্ষণ করা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে প্রাকৃতিকভাবেও অনেক সময় প্রাণের চিহ্নের মতো বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বিজ্ঞানের যেকোনো বড় দাবির ক্ষেত্রে জনমতের চেয়ে বিজ্ঞানীদের সুশৃঙ্খল ও পদ্ধতিগত মতামতের গুরুত্ব অনেক বেশি।