রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার, দাগেস্তান, স্তাভরোপোল এবং আদিগিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের চালানো ড্রোন হামলায় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোন-এর লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওজোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর তাদের একাধিক গুদামে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
হামলার বিবরণ
স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৫টার দিকে দাগেস্তানের মাখাচকালায় ওজোনের লজিস্টিকস কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর আগে, মাখাচকালা থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পূর্বে ক্রাসনোদার শহরে কোম্পানির আরেকটি কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাসনোদার শহরে ইউক্রেনীয় হামলায় ১৩, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী তিন শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও ছয়জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া আদিগিয়া ও স্তাভরোপোলের গুদামগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
ইউক্রেনের ধারাবাহিক এই হামলার জেরে সোমবার সকালে মস্কো স্টক এক্সচেঞ্জে ওজোনের শেয়ারের দর ১২ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। এছাড়া কোম্পানির অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডার এএফকে সিস্টেমার শেয়ারের দর প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়। ওজোনকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সহায়তার বিকল্প উপায় খুঁজছে সরকার।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার দ্বৈত ব্যবহার্য পণ্য মজুতকারী কেন্দ্রগুলোতে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা রাশিয়ার সামরিক লজিস্টিকস ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলছে। এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরি’স-এর বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন কেনাকাটার একটি বড় অংশ এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এই হামলার ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি সাধারণ রুশ নাগরিকদের ওপর পড়ছে।
রুশ প্রতিক্রিয়া
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শনিবার জানিয়েছেন, ইউক্রেন অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবে রাশিয়া কিয়েভের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। তবে ওজোন বা ওয়াইল্ডবেরি’স সামরিক পণ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হয় এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মস্কো।