ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি অর্জন করেছে হুতি বিদ্রোহীরা, যা আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একটি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, হুতিরা বাবেল মান্দেব প্রণালীর মুখে অবস্থিত কৌশলগত পেরিম দ্বীপটি দখল করে নিয়েছে।
এর একদিন আগেই সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের কথা জানায় হুতিরা। ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লোহিত সাগরের পুরো উপকূলরেখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
সংঘাতের প্রভাব
পেরিম দ্বীপটি বাবেল মান্দেব প্রণালীর সবচেয়ে সরু স্থানে অবস্থিত, যা লোহিত সাগরের শিপিং রুট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকা দিয়ে সৌদি আরব এশিয়ায় তেল সরবরাহ করে থাকে। হুতিদের এই অগ্রগতির ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই সংঘাতের ফলে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ না করে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
হুতিদের ভাষ্য
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া দাবি করেছেন, ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান সফল হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই সমুদ্রপথ নিরাপদ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাইজ ও হোদাইদা অঞ্চলের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে পরিবারগুলো বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হুতিরা বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে, যা গত জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।