ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন ও তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৌশলের কারণে শহরটির বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্লান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিসিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাশিয়ার বর্তমান আক্রমণাত্মক কৌশলে চার মিনিটেরও কম সময়ে সতর্কতা সংকেত পাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তাঁদের প্রাত্যহিক জীবন ও স্বাভাবিক ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কিয়েভে দায়িত্বরত ২৭ বছর বয়সী দারিয়া জানান, যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি শেলিংয়ের শব্দের মধ্যেও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়ার আক্রমণ তীব্র হওয়ায় তিনি এখন আর নিজ বাড়িতে নিরাপদ বোধ করছেন না। এক পর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি শহর ছেড়ে ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম্য বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এখন তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন।
আক্রমণের ধরন পরিবর্তন
এর আগে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বড় ধরনের আক্রমণের আগাম সংকেত দিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়া বিমান ব্যবহারের চেয়ে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতির হওয়ায় আঘাতের কয়েক মুহূর্ত আগে বা কখনো কখনো বিস্ফোরণের সাথে সাথেই সতর্ক সংকেত বাজে।
জীবন রক্ষায় গৃহবন্দি উপায়
শহরের অনেক বাসিন্দা বয়সের ভারে বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। ৬২ বছর বয়সী ওলহা ভ্লাসভাও তাঁর ৯৮ বছর বয়সী মায়ের সাথে কিয়েভের বহুতল ভবনে বসবাস করেন। আক্রমণ শুরু হলে মায়ের সুরক্ষায় তিনি জানালা থেকে দূরে একটি ম্যাট্রেস রেখে ওয়ারড্রোবের ভেতর লুকিয়ে থাকেন। রাতে বিরতিহীন সতর্ক সংকেত আর বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়দের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
চলমান প্রভাব
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ ও ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। দিন ও রাতের এই ঘনঘন হামলার কারণে স্কুল, মেট্রো চলাচল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ছে। শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
নিরাপত্তার ঝুঁকি
অনেকে আবার বেঁচে থাকার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছেন। নাটালিয়া নামের দুই সন্তানের জননী জানান, ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়লে উদ্ধারের আশায় তিনি ও তাঁর সন্তানরা সাথে জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং হুইসেল রাখেন। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর কাছে ক্রমাগত আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সহায়তা চেয়ে আসছেন যাতে সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।